প্রায় দুই দশকের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন ক্ষমতার একেবারে দ্বারপ্রান্তে—এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ফেরার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তারেক রহমান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনায় উঠে এসেছেন।
গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। তিনি বর্তমানে নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে আছেন। রাজনৈতিক এই নাটকীয় পরিবর্তনের পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে এসে বীরোচিত সংবর্ধনা পান তারেক রহমান।
তার বাবা-মা—প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া—বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী ছিলেন।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন—
-
আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বহুমাত্রিক করতে চান, যেন বাংলাদেশ কোনো একক শক্তির ওপর নির্ভরশীল না থাকে।
-
দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, এবং
-
পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা, চামড়া ইত্যাদি খাতে শিল্পায়নের প্রসার ঘটানোর ইচ্ছা রয়েছে।
-
প্রধানমন্ত্রী পদের সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে ১০ বছরের সীমা প্রস্তাব করেছেন স্বৈরাচারী প্রবণতা ঠেকাতে।
ঢাকায় ফিরে তিনি নিজেকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রনায়কের রূপে উপস্থাপন করছেন। উসকানিমূলক বক্তব্য পরিহার করে সংযম, সমঝোতা ও শান্তির আহ্বান জানাচ্ছেন। শেখ হাসিনার আমলে পরিবারের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ থাকলেও তিনি প্রতিশোধের রাজনীতি না করে শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
নির্বাসনে থাকা অবস্থায় তারেক রহমান একাধিক মামলায় অনুপস্থিতিতে দণ্ডিত হন—যা তিনি সবসময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এসব মামলায় তিনি খালাস পান।
লন্ডনে থাকা অবস্থায় দেখেছেন দলের পতন, নেতাদের গ্রেপ্তার, কর্মীদের নিখোঁজ হওয়া, কার্যালয় বন্ধ হওয়া—যা তাকে দেশে ফিরে দায়িত্ব নিতে আরও তাগাদা দিয়েছে।
দলের ভেতরে এখন তার নিয়ন্ত্রণ অনেক দৃঢ়। প্রার্থী মনোনয়ন, জোট আলোচনা ও সামগ্রিক কৌশল—সবকিছুই তিনি নিজে তদারকি করছেন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও টিকিয়ে রাখাই তার প্রথম অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।
তারেক রহমানের ভাষায়:
“গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমেই আমরা সমৃদ্ধ হতে পারি। গণতন্ত্র থাকলে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা যায়—তাই আমরা দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে চাই।”






























